আশরাফুল কবির আসিফ, বাংলাদেশ গ্লোবাল: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বের হয়ে এসে এককভাবে নির্বাচন করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি নিজে সরাসরি নির্বাচনে না থাকলেও তাঁর তিন ভাই মোট চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে কখনোই দলটির কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।
এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে ঋণ খেলাপের দায়ে একটি আসনের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছেন আদালত। এরপরই আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মোট প্রার্থী ২৫৩। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চরমোনাই পীরের কারণে দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে বরিশাল অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের ভোট ও প্রভাব বেশি। এবার বরিশাল জেলার সবগুলো আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তারা। এর মধ্যে দলের নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে লড়ছেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে দলটি। এছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মূল লড়াইয়ে চলে আসতে পারেন।
দেশের রাজনীতির এক বড় তারকা মাহমুদুর রহমান মান্না। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্না ডাকসুর দু’বার ভিপি ছাড়াও চাকসুর জিএস ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ (উত্তরা-তুরাগ) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে কেটলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। একদম শেষ মুহূর্তে বিএনপি জোট থেকে বের হয়ে এসেছেন মান্না। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, দু’টি আসনেই ধানের শীষ তাঁকে হতাশ করতে পারে।
একই ধরনের অবস্থার মুখোমুখি আরেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে ট্রাক প্রতীকে লড়ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। ধানের শীষের সমর্থন পেলেও নুরকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুন।
খোদ ঢাকাতেও একই দৃশ্য। রাজধানীর তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও শেরে বাংলা নগর - এ তিনটি থানা এলাকা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ঢাকা-১২। মোট প্রার্থী ১৫ জন। যা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে একক কোনো আসনে প্রার্থীর হিসাবে সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম, মাওলানা মামুনুল হক ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা লড়লেও এই আসনে চোখ থাকবে গোটা দেশের মানুষের।
বিএনপির সমর্থনে কোদাল প্রতীকে ভোট করছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তবে তিনি আছেন বড় বিপাকে। তিন ‘সাইফুল’-এর লড়াইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন আরও দু’জন প্রভাবশালী ‘সাইফুল’। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম খান মিলন এবং ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন সাবেক যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। ফলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে কমরেড সাইফুল হকের।
তবে নুর ও সাইফুলের থেকে কিছুটা নির্ভার আছেন রাজনীতির আরেক পরিচিত মুখ জোনায়েদ সাকি। গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারী ভোটে লড়ছেন মাথাল প্রতীক নিয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিয়ে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। ফলে প্রথমবারের মতো এমপি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে জোনায়েদ সাকির।
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com