ঢাকা      বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২
শিরোনাম

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

IMG
04 February 2026, 6:55 PM

বরিশাল, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বর্তমানে বাংলাদেশে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা গুপ্ত? প্রিয় ভাই-বোনরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে।’

আজ দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়িতে করে তিনি নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কের জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।

কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সহাবস্থান সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে নারী–পুরুষ সবাই মিলে মাঠে কাজ করেন। কৃষক ভাইয়েরা যেমন মাঠে কাজ করেন, আমরা জানি কিষানি বোনরাও মাঠে কাজ করেন। শুধু মাঠেই নয়, কলকারখানায় আমাদের মেয়েরা, বোনরা, নারীরা-পুরুষেরা পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। এই যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সমগ্র পৃথিবী গৌরব বোধ করে, সেই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন আমাদের নারীরা। কিন্তু আমরা কষ্টের সঙ্গে দেখছি, এই গুপ্ত দলের নেতা, এই জালেম দলের নেতা দু'দিন আগে আমাদের নারীদের নিয়ে একটি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন।’

কোনো দল বা নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘যেই ব্যক্তি বা যেই দলের তার দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, যেই নেতা, যেই দলের নেতা-কর্মীরা নিজের দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না, তাদের কাছ থেকে আর যা–ই হোক, বাংলাদেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না। দেশের মানুষ আত্মমর্যাদাপূর্ণ কোনো আচরণ আশা করতে পারে না।’

হযরত খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়, সেই কথা তারা বলেছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। তাঁর নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। যেখানে নবী করিম (সা.) নিজেও কাজ করতেন; কিন্তু এরা বলে— ইসলামী রাজনীতি করে, প্রিয় নবীজির স্ত্রী যেখানে কর্মজীবী নারী ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এমন একটি কলঙ্কিত শব্দে নারীদের জর্জরিত করলো।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বদরের যুদ্ধ হযরত আয়েশা (রা.)–এর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম সরবরাহ ও আহত মানুষদের সেবা করা হয়েছিল। কাজেই আমরা ইসলাম ধর্ম বলি, আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান বলি, সব জায়গায় নারীদের একটি শক্তিশালী অবস্থান আছে। এই নারীদের পেছনে রেখে, ঘরে বন্দী রেখে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি কখনোই আমরা মনে করি না। সে জন্যই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বাংলাদেশের নারীদের এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করে দিয়েছিলেন। তাই আজ আমাদের সময় এসেছে দেশ গড়ার। দেশ যদি গড়তে হয়, প্রতিটি নারী-পুরুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সে জন্যই আমরা এই নারীদের, বিশেষ করে গ্রামের-শহরের খেটে খাওয়া নারীদেরসহ সব গৃহিণীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো। নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবো।’

বিগত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আমরা দেখেছি, জনগণের ভোট নিয়ে কীভাবে নিশিরাতের ভোট হয়েছে। আমরা দেখেছি, নাগরিকের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু ’২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই আমি-ডামির নির্বাচনের মালিক যারা, নিশিরাতের মালিক যারা, তারা জনগণের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন এই বাংলাদেশ হচ্ছে, জনগণের বাংলাদেশ। এখন এই বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। এ জন্যই দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যাঁরা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী, জনগণের জবাবদিহি করে দেশ পরিচালনা করবে।’

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভোলায় সেতু করতে হবে, ভোলায় মেডিকেল কলেজ করতে হবে, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, মৎস্য খাতের উন্নয়নে কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র করতে হবে। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া এই বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন; কিন্তু এখনো অনেক কাজ বাকি। বিশেষ করে সব মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

বরিশাল নগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মণি, বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন