ঢাকা      শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

তিস্তার পানি বেড়ে ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

IMG
12 July 2020, 1:36 PM

লালমনিরহাট, বাংলাদেশ গ্লোবাল: প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি। এক সপ্তাহ পর আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে লালমনিরহাটের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৫ উপজেলার আবারো নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চরাঞ্চল ও তীরবর্তী গ্রামের ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে আবারো বন্যার পদধ্বনিতে শঙ্কিত তিস্তা ও ধরলা পাড়ের হাজারো পরিবার।

শনিবার সন্ধ্যায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৫ মিটার যা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে ধরলা পয়েন্টে পানি বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব অঞ্চল জুলাইয়ে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী বন্যায় পানিবন্দি থেকে সবেমাত্র মুক্তি পেয়েছে। সপ্তাহ না যেতেই ফের বন্যায় আশঙ্কায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

তিস্তার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফের পানিবন্দি হতে শুরু করেছে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলো। এসব অঞ্চলে বিগত বন্যায় শুরু হওয়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে স্থানীয় আকমল, রহিমা, বাবু ও মনির হোসেন জানান, গত ৫ জুলাই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকেই পানি বেড়ে ফের বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এখন ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে ফের দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ব্যারেজ রক্ষায় সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে সকাল থেকে পানি কমে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, পানি কমে যাবে। পানি নিয়ন্ত্রণ করতে ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পানিবন্দি পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন