ঢাকা      শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

IMG
15 September 2020, 7:19 AM

কলিট তালুকদার, পাবনা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতা-কর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন।

অভ্যর্থনায় সামনে থাকাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী মালিথার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে পৌর আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এদিকে, ঘটনার পর ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনসহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে সংঘর্ষের ঘটনার জন্য ঈশ্বরদী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন: ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা আবু কালাম, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, যুবলীগ কর্মী নাজিম উদ্দিন খান রনি, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশা চালক ওলিউর রহমান, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজ, গোলবার হোসেন ও যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম।

সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে রনিকে প্রথমে পাবনা এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, এ ঘটনা নৌকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নৌকার বিজয় লাভ করার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়া হবে।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী মালিথা বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টু ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ঈশ্বরদী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার সঙ্গে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দীন বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। শহরের পরিস্থিতি শান্ত আছে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

IMG

এ বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন