ঢাকা      শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

ছেলের আশায় আশায় আট কন্যা সন্তান, দুঃশ্চিন্তায় দরিদ্র সাইফুর

IMG
19 October 2020, 3:04 AM

কুড়িগ্রাম,বাংলাদেশ গ্লোবাল: দিনমজুর সাইফুর রহমান ও ফাতেমা বেগমের দাম্পত্যজীবনে ছেলে সন্তানের বাসনায় একে একে ঘরে আসে পাঁচ কন্যা সন্তান। এরপরও ছেলে সন্তানের আশায় আবার সন্তান নিলে এবার একসাথে জন্ম নেয় তিন কন্যা সন্তান। এমনিতে দিন চলেনা সাইফুরের। এরমাঝে তিন নবজাতক নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। সন্তানের খাবার নেই। স্ত্রীর ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবজাতককে দত্তক দেয়ার ঘোষণা দেয় এক স্বজনের মাধ্যমে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান সাময়িক এগিয়ে আসলেও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন এলাকাবাসীর।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর হাসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিন নওদাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর বিছানায় শুয়ে আছে প্রসূতি ফাতেমা। পাশে ঘুমে অসুস্থ্য তিন কন্যা শিশু। জন্মের সাত দিন হলেও শিশুগুলো এখনও অসুস্থ। অসুস্থ মাও। যেখানে পেটের ভাত জোটেনা; সেখানে চিকিৎসা চিন্তাই করতে পারছেন না ফাতেমার মা।

স্থানীয়রা জানান, ফাতেমার বাবা আইয়ুব আলী মারা গেছেন অনেক আগে। তার বিয়ে হয়েছে ফুলবাড়ির ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নগরাজপুর গ্রামে। স্বামী সাইফুর রহমান দিনমজুর। বিশ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হলে ছেলে সন্তানের আশায় পাঁচটি কন্যা সন্তান হয় তাদের। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন প্রায় এক বছর আগে। বাকিদের একজন নবম শ্রেণিতে, একজন সপ্তম ও দু’জন শিশু শ্রেণিতে পড়ে।

সাইফুর জানান, টানাপোড়নের সংসারে শখ আহ্লাদ করতে পারেননি কখনও। বাকি চার মেয়ের আবদার বেশিরভাগ রাখতে পারেন না তারা। তবুও একটি ছেলে সন্তানের আশায় শেষবারের মত সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে ফাতেমা আসেন তার মায়ের কাছে। সেখানে গত ১২ অক্টোবর তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরিবারে নতুন কারও আগমনে সবাই খুশি হয়। কিন্তু একসাথে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম খুশির চেয়ে সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবারের। ফাতেমার স্বামী সাইফুর রহমান মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এ খবরে। তারপর থেকে ভালো করে কথ বলছেন না কারও সাথে।

ফাতেমার মামা মেহের আলী জানান, জন্মের পর তিন শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলেও প্রসূতি মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। প্রায় সপ্তাহ ধরে বিছানা থেকে উঠতে পারেনি। ঠিকমত খাওয়া হচ্ছেনা চিকিৎসাও করারও সামর্থ্য নেই। বাচ্চাগুলোও খাদ্যের অভাবে কেঁদে চলছে। স্বজনরা কিছু কিছু সহযোগিতা করলেও তা সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ফাতেমার মা রহিমা বেওয়া বাড়ির পাশের হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। এখানকার আয়ে নিজের দিন চলেনা তার। এরমাঝে প্রসূতি মেয়ে, তিন নবজাতকসহ আট নাতনীকে নিয়ে দূশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। এতগুলো মানুষের খাবার জুটবে কিভাবে। নবজাতক ও মেয়ের চিকিৎসা করাবে কিভাবে। রহিমা বেওয়া জানান, কষ্ট হলেও আপন জনকে কেউ ফেলায় না। কিন্তু এতগুলো মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তিনি।

স্বজনরা জানান, দরিদ্র সংসারে পূর্বের পাঁচ মেয়ে থাকায় নবজাতকদের দত্তক দেয়ার কথা ভেবেছিল তারা প্রথমে। আত্মীয়ের একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি স্ট্যাটাস আকারে দেন। তবে পরবর্তিতে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। অসুস্থ্য ফাতেমা বলেছেন, বাঁচলে সবাই একসাথে বাঁচবে। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দেখবেন।

প্রতিবেশি বাবুল চন্দ্র বলেন, সাইফুরের বাড়িভিটে ছাড়া কোন জমি নেই। দিনমজুরি করে। কাজ না পেলে হাটে সবজি বিক্রি করে। এখন আট মেয়ে তার। শ্বাশুরি দিন দিন খায়। সেও বা কেমন করে তাদের রাখবে। বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে সাইফুর। এ অবস্থায় বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে শিশুগুলো বাঁচবে।

এ প্রসঙ্গে হাসনাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মাওলা বাবলু বলেন, বিষয়টি জানার পর ওই প্রসূতির মাকে ডেকে কিছু চাল, ডাল ও বাচ্চাদের খাবার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও যেহেতু তিনি ভাঙামোড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিনি স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহম্মেদ মাছুম জানান, প্রসূতিকে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন