ঢাকা      সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

উত্তম কুমারের কারণে অবিবাহিতই রয়ে গেলেন সাবিত্রী

IMG
22 February 2021, 9:03 AM

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক, বাংলাদেশ গ্লোবাল: ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। জন্ম এদেশের কুমিল্লার কমলাপুর গ্রামে। ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সবার ছোট। দেশ ভাগের পর তিনি কলকাতায় চলে যান। ছিলেন টালিগঞ্জে এক বোনের বাড়িতে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অভিনয় জীবন।

সংসারের অভাব তাঁকে বাধ্য করেছিল ছবিতে অভিনয় করতে। বাবা ঢাকা থেকে অর্থ সাহায্য পাঠাতে পারছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে খুব অল্প বয়সে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। নাটকের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোনের চরিত্রে ‘নতুন ইহুদি’ নাটকে প্রথমবার রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় সাবিত্রীর।

অভাব-অনটনে সংসারের হাল ধরতে নাটকের পাশাপাশি নাচের অনুষ্ঠান করতেন তিনি। এরপর সুযোগ আসে রুপালি পর্দায় অভিনয়ের। ১৯৫১ সালে অগ্রদূত পরিচালিত ‘সহযাত্রী’ ছবিতে অভিনয় করেন সাবিত্রী। ছবিতে নায়ক উত্তম কুমারের পার্শ্বনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই প্রথম উত্তমকে কাছ থেকে দেখা সাবিত্রীর।

১৯৫২ সালে ‘পাশের বাড়ি’ ছবিতে প্রথমবার তাঁকে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘পাশের বাড়ি’, ‘রাতভোর’, ‘উপহার’, ‘অভয়ের বিয়ে’, ‘নূপুর’, ‘গলি থেকে রাজপথ’, ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘কুহক’, ‘বধূ’, ‘ভ্রান্তি বিলাস’, ‘উত্তরায়ণ’, ‘জয়া’, ‘কাল তুমি আলেয়া’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘মাল্যদান’ প্রভৃতি। ধীরে ধীরে টালিগঞ্জ পাড়ায় সকলের প্রিয় ‘সাবু’ বা ‘সাবুদি’ হয়ে উঠেন তিনি। 

উত্তম কুমারের সঙ্গে খানিকটা প্রেম ছিল, তা অবশ্য বলতে কোন দিনও দ্বিধা বোধ করেন না তিনি। সাবিত্রী বলেছেন, ' (প্রেম) তা ছিল তো খানিকটা। তবে রটনাটা বেশি, আসলটা কম। যেটা শোনা গিয়েছিল যে, আমায় বিয়ে করে বালিগঞ্জে বাড়ি ভাড়া করে আছে, যা নিয়ে ঝড় বয়ে গেল, সেসব কিন্তু কিচ্ছু না। 

উত্তম-সাবিত্রীর জুটিকে দর্শক একসাথে বহুবার দেখতে পেয়েছে স্ক্রিনে। ‘অনুপমা’, ‘মৌচাক’, ‘রাইকমল’, ‘নবজন্ম’, ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘রাজা সাজা’, ‘দুই ভাই’, ‘লাখ টাকা’, ‘কল্যাণী’, ভ্রান্তিবিলাস’, ‘মোমের আলো’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘রাতভোর’ এবং ‘ধন্যি মেয়ে’-এর মতো ছবিতে দর্শকদের মনে দাগ কেটেছেন তাঁরা।

গৌরী দেবীর সঙ্গে মহানায়কের সংসার ভেঙে চলে আসা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। সংসার ছেড়ে উত্তম কুমারের চলে আসা তাঁর মোটেই ভাল লাগেনি। মহানায়ককে জানিয়েছিলেন তিনি। শেষ দিকে উত্তমের জীবনের টানাপড়েন তাঁকে কষ্ট দিত।

তিনি বলেছিলেন, কাউকে কাঁদিয়ে জীবনে সুখী হওয়া যায় না। নিজের মুখে তিনি বলেছেন, বিয়ের বহু সম্বন্ধ ভেঙে দিয়েছিলেন উত্তম কুমার। তাঁর কথায়, উত্তম আমার প্রতি পজেসিভ ছিল।

মহানায়কের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই গাঢ় হয়েছিল তাঁর প্রতি ভালোবাসা। আটের দশকে মহানায়কের মৃত্যুর পর থেকে অভিনয় করা কমিয়েই দিয়েছিলেন তিনি। তবে ফের একবার নতুন প্রজন্মের পরিচালক এবং কলাকুশলীদের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে।

‘প্রাক্তন’, ‘পদক্ষেপ’, ‘হেমলক সোসাইটি’-র মতো ছবি, মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মশ্রী’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’সহ নানা পদক ও সম্মাননা।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন