ঢাকা      সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই সবকিছু অর্জন করেছে বাঙালি: প্রধানমন্ত্রী

IMG
22 February 2021, 9:57 PM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্যই আন্দোলন ছিল না; বরং এই আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন নয়, এই ভাষা আন্দোলন আমাদের বাঙালি জাতি হিসেবে সার্বিক অর্জনের আন্দোলন।

১৯৭১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেটা আমাদের করে দিয়ে গেছেন, যেটা ধরে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এই আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

তিনি বলেন, ’১৯৫২ সালে রক্ত দেয়ার পরেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছিল, তা কিন্তু নয়। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারেও যেমন এই রাষ্ট্রভাষার কথা বলা হয়েছিল এবং সত্তরের নির্বাচনেও এই রাষ্ট্রভাষার কথা আসে। কারণ ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন যে শাসনতন্ত্র করা হয়, তাতে উর্দুর সাথে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্তরের নির্বাচনের পরে ১৯৭১ সালে আমরা যখন মুক্তিযদ্ধে বিজয় অর্জন করি এবং জাতির পিতা আমাদের যে সংবিধান দেন - সেখানে বাংলা ভাষাই ছিল রাষ্ট্রীয় ভাষা। সেই মর্যাদাই আমরা পাই। তিনি বলেন, ’১৯৫৬ সালে শহীদ মিনার তৈরী করা, ২১ ফ্রেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া - এসব কিছু তখন আওয়ামী লীগই করে। ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনশনরত অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে বের করে তাঁর দাদা টুঙ্গিপাড়া নিয়ে গেলেও সুস্থ হয়ে ফিরেই পুনরায় ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আবারো আন্দোলন শুরু করেন তিনি। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদানের দাবি তখন জাতির পিতা তাঁর বিভিন্ন ভাষণে করে গিয়েছেন।

তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য পাকিস্তানী ইন্টালিজেন্স ব্রাঞ্চের গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টালিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এটা পড়বেন। তাছাড়া যারা গবেষণা করেন - তাদের বলবো মহামূল্যবান দলিল আপনারা এখানে পাবেন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি এতে বক্তব্য রাখেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ আলোচনা সভাটি গণভবন থেকে সঞ্চালনা করেন।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

IMG

এ বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন