ঢাকা      বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

বাংলাদেশ এখন আর দরিদ্র দেশ নয়: নওগাঁয় তথ্যমন্ত্রী (ভিডিও)

IMG
28 February 2021, 6:41 PM

সুমন আলী, নওগাঁ, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বাংলাদেশের যত অর্জন সবকিছুর সাথে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম। আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র স্বাধীনতা নেতৃত্বদানকারী সংগঠন নয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এদেশের সকল অর্জন হয়েছে। আর কয়েকদিন পর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। এরই মধ্যে গত পরশু দিন রাতে এই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির পূর্বক্ষণে আরেকটি অর্জন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। সেটি হলো উন্নয়নের সবগুলো সুচক অর্জিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন আর বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ নয়।

আজ রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন বলেছিলেন আগামী ১০ বছরে পাকিস্তানকে সুইডেন বানিয়ে দিবেন। তখন সেদেশের মানুষ বলেছিলেন, আগামী ১০ বছরে সুইডেন নয়, বাংলাদেশ বানিয়ে দেন। আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতের মানুষের মাথাপিছু আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। বিগত ১২ বছরে সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যত অর্জন হয়েছে, তার সবগুলোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার সূচনা পাঠ ছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেই ধারাবাহিকতায় বাঙালি অর্জন করেছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির জন্য কখনো স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না। বঙ্গবন্ধুই ঘুমন্ত বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন। সকলকে সংগঠিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিহাসের পাতায় আরো বহু বাঙালি নেতা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, চেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু সফল হননি। বঙ্গবন্ধুই সেই সফলতা এনে দিয়েছেন এবং সেই কারণেই বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার ফলে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি অনেক সহনীয় পর্যায় ছিল। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি নেতাসহ সরকারের সমালোচকরা করোনা শুরুর প্রথম থেকে বলে আসছেন, বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ আাক্রান্ত হবে। আর লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে। তাঁরা আরো বলেছিলেন, সরকার করোনা প্রতিষেধক টিকা আনতেই পারবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। টিকা উৎপন্ন হওয়ার আগেই টিকা ক্রয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই টিকা বাংলাদেশে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা দেয়া অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যারা বলেছিলেন টিকা আনতে পারবে না - সেই বিএনপি নেতারা এবং সামলোচকরা গোপনে টিকা গ্রহণ করছেন। তিনি বিএনপি নেতা এবং সমালোচকদের গোপনে টিকা গ্রহণ না করে প্রকাশ্যে টিকা নেয়ার আহবান জানান। তিনি এ ব্যাপারে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে তাদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আরো বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে মারা যাবে। কিন্তও সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের কারণে গত এক বছরে একজন মানুষও অনাহারে মারা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। এর ফলে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা ও কয়েক হাজার নেতা-কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। অথচ যারা রাজপথে সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিলেন, দেশের মানুষের পাশে তাঁরা ছিলেন না। করোনা পরিস্থিতিতে যখন শ্রমিক সংকটে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারছিলেন না, তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন। দেশে এ ধরনের নজির ইতিপূর্বে ছিল না।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিত। এদেশে ভিক্ষুক খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতুত্বকালীন ভাতা, অসহায় গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দিয়ে দেশে নজির সৃষ্টি করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সন্মানী ভাতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে এখন ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকার সারাদেশে যত উন্নয়ন কার্যক্রম করেছে, সেসব উন্নয়নের কথা দেশের মানুষের মধ্যে প্রচার করতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আত্রাই উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলালের সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার। আওয়ামী লীগে টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজের কোন স্থান নেই বলে এসময় সাফ জানিয়ে দেন খাদ্যমন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এবং আনোয়ার হোসেন হেলাল। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলালকে সভাপতি ও আক্কাস আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন