ঢাকা      সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে অনলাইন উদ্যোক্তা (ভিডিও)

IMG
12 September 2021, 9:48 PM

খাইরুজ্জামান সেতু, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: অনলাইন উদ্যোক্তা বাড়ছে চুয়াডাঙ্গায়। বিশেষ করে নারীরা সংসার ও পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা করছে। করোনাকালীন সময়ে বাড়ী বসো থেকে অনেকেই অনলাইনে সময় কাটিয়েছেন।

করোনা মহামারিতে ঘরে বসে নারীরা নিজে যেমন উপার্জনের উপায় খুঁজে নিয়েছেন, তেমনি অনেক পুরুষও নিজের কাজের পাশাপাশি ঘরে স্ত্রী, কন্যা কিংবা বোনকে অনলাইন ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন।

দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এক জন নারী শুধু চাকরি নয় বরং নিজে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। আর বর্তমানে নারীরা সেদিকেই হাঁটছেন। বর্তমানে পোশাক, শাড়ি-গয়না, ফার্ণিচার থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রী, ঘর সাজানোর পণ্য, শিশু খাদ্য, প্রসাধন সামগ্রীসহ এমন কিছু নেই, যা অনলাইনে কেনা-বেচা হচ্ছে না। আর ই-কমার্স নামে পরিচিত এ ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে ফেসবুক গ্রুপ বা পেজের মাধ্যমে বেচে বিক্রি দিন বাড়ছে, কারণ গ্রুপ খুলতে ডোমাইন, হোস্টিং কোনটাই লাগছে না। আর এই উদ্দ্যোক্তাদের বেচা-বিক্রিও ভালো। তবে অধিকংশ উদ্দোক্তারই অভিন্ন সমস্যা ডেলিভারি দেওয়া।

চুয়াডাঙ্গা কোর্টপড়ার মেয়ে সিফাত, তিনি কাজ করছেন হোমমেড ফুড, জামদানী শাড়ী ও কামিজ নিয়ে। তার নিডস ফুড নামে ফেসবুকে পেজও আছে। তিনি জানান হঠাৎ তার স্বামী দূর্ঘটনায় মারা যায় তার পর আস্তে আস্তে শুরু হয় মানুষিক টেনশন। এই সবকিছু কাটিয়ে উঠতে তার ব্যস্ততার প্রয়োজন। সিফাত রান্না করতে অনেক পছন্দ করত তাই নিজের হাতে রান্না করে সবাইকে খাওয়াতেন। হঠাৎ তার মাথায় আসলো রান্না নিয়ে কিছু করবে। তারপর থেকে শুরু হলো ব্যবসার পথচলা।

রুহি ইসলাম, তিনি সংসার সামলিয়ে জীবননগর থেকে কাজ করছে হাতের কাজের পোশাক নিয়ে। তার ফেসবুক পেজের নাম এপলিক বুটিজ হাউজ। তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই তার ইচ্ছা পড়াশোনা করে চাকরি করবেন না নিজে কিছু একটা করবে।

আরেকজন গৃহিনী চুয়াডাঙ্গার পাপিয় সুলতানা মুনি, তিনি জানান, ভেজালের এই যুগে আমার খাঁটি কৃষি খাদ্য পণ্য পৌঁছে যাক সবার রান্না ঘরে।এই চিন্তা মাথায় নিয়েই ব্যবসা শুরু। তিনি আরো জানান কুরিয়ার চার্জ বেশীর কারনো মাল বিক্রি করতো সমস্যায় পড়তে হয়। হাফিজা খাতুন মিম, তিনি চুয়াডাঙ্গার আলোকদিয়া থেকে ব্যবসা করছেন। তিনি জানান বাড়িতে অবসর বসে বা থেকে কিছু করাও হলে কিছু ইনকামও হলো। জান্নাতুল তানজিয়া মেঘলা দর্শনা থেকে ব্যবসা শুরু করে কেরু এণ্ড কোম্পানির চিনি দিয়ে। তিনিও সংসার সামলিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করার জন্য ব্যবসা শুরু করেছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে অনলাইনে ব্যবসা করছে তাছলিমা আক্তার সোমা। তার পেজের নাম বসন্তবৌরি।

তিনি একজন গৃহিনী, সংসার সামলিয়ে বিক্রি করছেন দেশী শাড়ী ও বাচ্চাদের পোশাক। জান্নাত-ই রিমি। তিনিও চুয়াডাঙ্গা থেকে কাজ করছেন। তিনি প্রথমে শুরু করেন শখেরবসে। সহযোগিতা করেছেন স্বামী ও মা। এখন তিনি কোর্ট এলাকায় একটা দোকান দিয়েছে। তিনিও মেয়েদের পোশাক বিক্রি করেন। হেলেনা আক্তার কামনা। তিনি আলমডাঙ্গা থেকে সবধরনের হোমমেড কেক বিক্রি করছেন। তিনি জানান মাস্টার্স কমপ্লিট করার পরেও চাকরি বাকরি যখন হলোনা তখন নিজের প্রতিভাটাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে কাজ শুরু করে দেই। তার পেজের নাম ড্রিম কেক হাউজ।

সালেহীন ইস্তুিয়াক তিনিও নিজের অন্যান্য ব্যবসা সামলিয়ে শখেবসে অনলাইনে মধু, ঘি, তেল বিক্রি করে। তার পেজের নাম খাটির খোজে। উদ্দ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে একজন উদ্দ্যোক্তা প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার উপরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করে থাকে।

এদিকে অধিকংশ উদ্দোক্তারই সমস্যা ডেলিভারি নিয়ে। লোকালে যেমন কোন কুরিয়ার সার্ভিস নেই, ঠিক তেমনি ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাতে পাঠাতে হলে কুরিয়ার চার্জ অনেক বেশী হয়ে যায়। এ কারনে অনেক ক্রেতা সব ঠিকঠাক হওয়ার পরও মাল নেওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়, তাহলে উদ্দ্যেক্তাদের বেচে বিক্রি আরে বাড়বে বলে মনে করেন উদ্দ্যোক্তরা।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএস

এ বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন