ঢাকা      শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে ইউএনজিএ-তে যোগদানকে স্বাগত জানায়: সেপ্পো

IMG
20 September 2021, 12:40 AM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো আজ জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) তে যোগদানকে স্বাগত জানায় উল্লেখ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে প্রধানমন্ত্রী প্রধানত বাংলাদেশ বর্তমানে মোকবেলা করছে এমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো উত্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউএনজিএ ভাষণে প্রত্যাশিত প্রধান ফোকাস ক্ষেত্রগুলো হলো- জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি, কোভিড-১৯ মহামারী থেকে আরও ন্যায়সঙ্গত, সবুজ পুনরুদ্ধার এবং ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ন্যায্যতা সহজতর করা।’ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত 'ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ইউএনজিএ’তে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর তার সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ইউএনজিএ চলাকালীন রোহিঙ্গা সংকট কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সাইডলাইনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী সেপ্পো আশা প্রকাশ করেন যে, এতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ থাকবে।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ আমাদের সময়ের একটি ট্র্যাজেডি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও রোহিঙ্গাদের একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যে সংকটের সমাধান মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে দৃশ্যমান, টেকসই সমাধান হল শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে স্থায়ীভাবে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং ব্যাপক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের কোভিড-১৯. ধ্বংসাত্মক মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং শিবিরে একাধিক অগ্নিকান্ড দ্বারা রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান সম্পদ-সীমাবদ্ধতার পরিবেশের মধ্যেও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করছে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথাউল্লেখ করে সেপ্পো বলেন, ইউএনএসজির বিশেষ দূত সংকটের সমাধান খুঁজতে জাতীয় পরামর্শ কামনা অব্যাহত রেখেছেন।

‘তবে, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইউএনজিএ রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের স্থানীয় প্রধান বলেন, জাতিসংঘ ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের জন্য কার্যক্রম শুরু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে কিভাবে কার্যকরভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই ভাসান চরে কর্মরত বাংলাদেশি এনজিওগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভাসান চরকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে কিন্তু এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ছিল।

সেপ্পো বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী বৈষম্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন, লিঙ্গবৈষম্যের চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, ‘উন্নত লিঙ্গ সমতা অন্যান্য এসডিজি অর্জনে গুণক প্রভাব ফেলে থাকে এবং পরিসংখ্যানগতভাবে, লিঙ্গ সমতার দেশগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি শান্তিপূর্ণ।’ সেপ্পো বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাব লিঙ্গ সমতা এবং নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে পূর্বে-বিদ্যমান বৈশ্বিক বিপরীত প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।

আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করলে অনেক সুযোগ পাবে কিন্তু বৈষম্যের চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হবে, যা খুব কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শান্তি ছাড়া উন্নয়ন হয় না এবং উন্নয়ন ছাড়া শান্তি আসে না এবং শান্তি বজায় রাখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এক প্রশ্নের জবাবে সেপ্পো বলেন, বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ করলে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করতে পারে। তিনি বলেন, ‘চাওয়া না হলে জাতিসংঘ নির্বাচনী সহায়তা প্রদান করে না।’

জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা সম্পর্কে সেপ্পো বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে জরুরি অবস্থার মারাত্মক মাত্রা মাকাবেলায় বিশ্বকে জোরালো প্রয়াস নিতে হবে।
ডিক্যাব সভাপতি পান্থ রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনউদ্দিনও বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএস

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন