ঢাকা      বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
IMG-LOGO
শিরোনাম

জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

IMG
25 June 2022, 5:14 PM

মাদারীপুর, বাংলাদেশ গ্লোবাল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন বলেই জনগণের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আজ পদ্মা সেতু নির্মাণে সমর্থ হয়েছেন। প্রয়োজনে দেশের উন্নয়নে জীবন দিয়ে হলেও কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও ব্যক্ত করেন তিনি। এক সময় দেশের অনেক জ্ঞানী-গুনী ব্যক্তিদের উক্তি ‘নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে নিজেদের টাকায় কীভাবে পদ্মা সেতু করতে পারলাম কারণ, আজকে আপনারা বাংলাদেশের জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি - আমি সেটাতেই বিশ্বাস করেছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ দুপুরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির নেতাদের বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগ কোনদিনও পদ্মা সেতু করতে পারবে না’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে খালেদা জিয়াকে বলছি আসুন, দেখে যান - পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কি-না।’

তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। কারণ, আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। সরকার প্রধান বলেন, ‘আরো উন্নত জীবন যেন আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা পায়, তার ব্যবস্থাও আমি করবো। আজকে আপনাদের কাছে এটাই আমার ওয়াদা।’ শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশে যেমন আমরা খাদ্য, বিদ্যুৎ ও গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। আরো উন্নত জীবন যেন আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা পায়, তার ব্যবস্থাও আমি করবো।

তিনি বলেন, ‘বাবা, মা, ভাই সব হারিয়ে পেয়েছি আপনাদের। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ, আপনাদের পাশেই আমি আছি, আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যে কোন ত্যাগ স্বীকারে সব সময় প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আপনাদের, এই দেশ আমাদের। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন এবং এই দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ সভা পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ২০০১ সালে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও খালেদা জিয়া সরকারে এসে সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। আবার ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে এই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে বয়সের কারণে চলে যেতে হলো, তখন তিনি আমেরিকায় গিয়ে তদবির করে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলেন।

তিনি বলেন, সে সময় বলা হলো, দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু কে দুর্নীতি করেছে? যে সেতু আমাদের প্রাণের সেতু, যে সেতুর সঙ্গে আমার এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য জড়িত। এই সেতু নির্মাণে কেন দুর্নীতি হবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিশ্ব ব্যাংক) টাকা দেয়নি। কিন্তু দুর্নীতি-ষড়যন্ত্র বলে টাকা বন্ধ করলো।

জাতীয় সংসদে তখন তাঁর ঘোষণা- ‘বাংলাদেশ বসে থাকবে না, আমরা নিজের টাকায় এই পদ্মা সেতু তৈরী করবো’র উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে অনেক ভাবে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করেছে এবং তাদের একটা ধারণা ছিল যে, বাংলাদেশ নিজের টাকায় এই সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। কিন্তু, তিনি জনগণের শক্তিতে আস্থা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের পর তাঁর উদ্যোগে জনগণ ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসে এবং তাঁর মাঝেও শক্তি সঞ্চারিত করেছে বলেই আজকে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছেও এজন্য শুকরিয়া জানান।

আর কাউকে এই বর্ষাকালে খরস্রোতা পদ্মা পাড়ি দিতে হবে না উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আর কাউকে এই পদ্মা নদী পাড়ি দিতে গিয়ে বাবা, মা, ভাই-বোন, সন্তান বা আপনজনকে হারাতে হবে না, আপনারা সেখানে নির্বিঘ্নে চলতে পারবেন। সেই ব্যবস্থাই আমরা করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আর যারা এই সেতু নির্মাণে বাধার সৃষ্টি করেছিল, তাদের এই পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে উপযুক্ত একটা জবাব আমরা দিতে পেরেছি- না, বাংলাদেশ পারে। আর বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

’৭৫ এ বাবা, মা, ভাইদের হারানোর পর ’৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর একরকম জোর করেই নির্বাসিত জীবন থেকে তাঁর দেশে ফিরে আসার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে ফিরে এসেছিলেন এই বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশ তখন ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি সে সময় শরীয়তপুরে আসার স্মৃতিচারণ করে বলেন, লঞ্চে করে আসার পর লঞ্চ নষ্ট হয়ে গেলে নৌকায় করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বেরিয়েছেন, কাদা-পানিতে নেমেছেন, মিটিং করেছেন, আজকে যে শরীয়তপুরের চেহারা পাল্টে গেছে। কারণ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে রাস্তা-ঘাট, পুল, ব্রীজ করেছে এবং সার্বিক উন্নয়ন করেছে।

সে সময় মাদারীপুরও সেই লঞ্চে যেতে হতো এবং গোপালগঞ্জ যেতে ঢাকা থেকে ২২ ঘণ্টা সময় লাগতো এবং এসব এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়নসহ তাঁর সরকার শিকারপুর, দোয়ারিকা এবং গাবখান সেতু করে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি করেছে। তিনি এ সময় করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি সকলকে টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেন। পাশাপাশি দেশের এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে তা নিশ্চিত করারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন