ঢাকা      বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
IMG-LOGO
শিরোনাম

জুনে সড়কে ১০৪৭ প্রাণহানি, বেশি মৃত্যু বাস দুর্ঘটনায়

IMG
01 July 2022, 10:38 PM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: পৃথক তিন হাজার ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় গত জুন মাসে দেশে এক হাজার ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৬২২ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু (৪২০) হয়েছে বাস দুর্ঘটনায়।

শুক্রবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের জাতীয় মহাসড়ক ছাড়াও আন্তঃজেলা ও আঞ্চলিক সড়কে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভ দ্য রোড’।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, পুরো জুন মাসজুড়ে বিভিন্ন সময়ে দেশের ২১টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবরের ভিত্তিতে এই জরিপ করা হয়েছে। এ দিন সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি পাঠ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে গত জুন মাসে মোট ৮৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫২ জন। এছাড়া ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬১৮টি। এরমধ্যে ১৫৬ জন নিহত ও ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন। আর ৯৩৮টি বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪২০ জন। সেই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫১ জন।

এদিকে, সারাদেশের আঞ্চলিক মহাসড়কে অসাবধানতার কারণে লরি, পিকআপ ভ্যান, নসিমন-করিমন, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত ও রিকশা-সাইকেলে আরও ৬৯৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে নিহত হয়েছেন ১৯৫ জন এবং ৬৬৩ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, গত জুনে নৌ-পথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১২২টি। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ৪৭৭ জন আহত হয়েছেন। আর রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। এরমধ্যে ১৭ জন মারা গেছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। তবে আকাশপথে দুর্ঘটনা না হলেও বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন সময়ে ৭৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভ দ্য রোডের’ দাবি- মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে চালানো, ট্রাফিক নিয়ম না মানা, হেলমেট ব্যবহারে অনীহা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া অসাবধানতা ও ঘুমন্ত চোখে ক্লান্তিসহ দ্রুত চালানোর কারণে ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর বাসে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর পেছনে রাস্তার খানাখন্দ, অচল রাস্তাঘাট ও সড়ক পথে নৈরাজ্যকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।

এ দিন সংবাদ সম্মেলনে যাত্রাপথ দুর্ঘটনামুক্ত করতে সেভ দ্য রোডের পক্ষে সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

*বঙ্গবন্ধু ফুটবল লীগের খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কপথে দুর্ঘটনায় নিহত অর্ধশত শিশু-কিশোরের স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।

*ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে।

*সড়কপথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেসবিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত চালক-সহযোগী নিয়োগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

*স্থল, নৌ, বিমান ও রেলপথ দুর্ঘটনায় নিহতদের সরকারিভাবে কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

*‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে।

*পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিতকরণের মধ্যদিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের আগ পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সবপথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

*স্পিড গান, সিসিটিভি ক্যামেরা, ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতুসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য রোডের চেয়ারম্যান ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে শ্রমিক নেতা ওসমান আলী, সংবাদযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, সেভ দ্য রোডের প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, শওকত হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, আইয়ুব রানা, সাংবাদিক আনজুমান আরা শিল্পী, ওয়াজেদ রানা, কায়েস সাজবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএস

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন