ঢাকা      বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
IMG-LOGO
শিরোনাম

প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের অপেক্ষার পরামর্শ জাতিসংঘের

IMG
16 August 2022, 9:24 PM

কক্সবাজার, বাংলাদেশ গ্লোবাল: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেতের কাছে রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তবে রাখাইনের এখনকার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো শুরু করাটা ঠিক হবে না বলে মনে করেন মিশেল। আজ মঙ্গলবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা তিনটি মতবিনিময় সভা করেন মিশেল ব্যাশেলেত। উখিয়ার ৪ নম্বর শিবিরে এসব বৈঠক শেষে রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের মিশেলের দেওয়া পরামর্শের কথা জানান।

আজ সকালে শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনা রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় নেতা ও রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

চার দিনের বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার বিকেলে মিশেল ব্যাশেলেত কক্সবাজার পৌঁছান। আজ সফরের তৃতীয় দিনে ইউএনএইচসিআর-এর নিবন্ধন কেন্দ্র পরিদর্শনের মধ্যে দিয়ে তাঁর রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)’র ই-ভাউচার কেন্দ্র পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে মতবিনিময় করেন তিনি।

উখিয়ার ৪ নম্বর শরণার্থী শিবিরের নারী বান্ধব কেন্দ্রে মিশেল ব্যাশেলেত ৯ জন রোহিঙ্গা নারী প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রায় ৪০ মিনিটের এই আলোচনায় তিনি তাদের কাছে শিবিরে তারা কেমন আছেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের ভাবনা এসব নিয়ে জানতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার বিষয় নিয়েও জানতে চেয়েছেন মিশেল ব্যাশলেত।

এ বিষয়ে শিবিরের বাসিন্দা আমিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশে কেমন আছি জানতে চেয়েছিলেন তিনি। আমরা সবাই বলেছি, আমরা এখানে রাখাইনের তুলনায় ভালো আছি। কিন্তু এটা তো আমাদের দেশ নয়। আমরা রাখাইনে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনও অনেক অশান্তি বিরাজ করছে। তাই তাঁকে রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’

রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে চায় কি-না আমিনা খাতুনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন মিশেল ব্যাশেলেত। আমিনা জানিয়েছেন, এর জবাবে তিনি বলেছেন, ‘রাখাইনে শান্তি করে দিলে, আগস্টের নৃশংসতার জন্য ক্ষতিপূরণ দিলে আমরা চলে যাবো। কিন্তু তা না দিলে যাবো না।’

রোহিঙ্গা নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর মিশেল ব্যাশেলেত শিবিরের ৯ জন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁদের সবাই মূলত মসজিদ ও মাদ্রাসায় নানা পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জানতে চাইলে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ জামিল বলেন, ‘শিবিরে যে মারামারি হচ্ছে তা নিয়ে জাতিসংঘের হাইকমিশনার জানতে চেয়েছেন। প্রশাসনকে নানাভাবে সহায়তার পাশাপাশি আমরা খারাপ কাজ এবং যে কোন অবৈধ কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকতে লোকজনকে প্রতিনিয়ত বলছি। এরপরও এসব হচ্ছে।’ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ সব ধরণের চেষ্টা করবে বলে মিশেল ব্যাশেলেত তাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন