ঢাকা      রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
শিরোনাম

নীলফামারীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত দুই লক্ষাধীক গবাদি পশু

IMG
10 June 2024, 2:46 PM

নীলফামারী, বাংলাদেশ গ্লোবাল: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ২লাখ ৭৬হাজার ২০১টি গবাদিপশু। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে পশু ক্রয়-বিক্রয়। তবে হাটবাজার জমে উঠতে আরও কয়েক দিন দেরি হবে বলে জানান খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের আর অল্প কিছুদিন বাকি থাকায় শেষ মুহুর্তে গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন। তবে পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেকটাই বেড়েছে বলে জানান খামারিরা।

কথা হয় জেলা শহরের হাজি মহসিন সড়ক সংলগ্ন মোস্তাফিজার রহমান মুক্তির সাথে। তিনি জানান, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩০টি গরু দেশিয় পদ্ধাতিতে খড় ঘাষ খাইয়ে মোটাতাজা করেছি। এবারে আমাদের দেশিয় গরু দিয়ে কোরবানির হাট পরিপূর্ণ হবে। প্রচুর গরু রয়েছে কৃষক ও খামারিদের কাছে।’

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহলীপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এবার কোরবানির জন্য দেশি জাতের ১২ টি গরু পালন করেছি। তবে গোখাদ্যের দাম ও কাজের লোকের হাজিরা, সব মিলে একটি গরুর পেছনে যে ব্যয় হয় তা পুষিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হবে।’

ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর সিংদই ময়দান পাড়া এলাকায় অবস্থিত আদিল এগ্রোর প্রোপাইটর আজমাঈন আদিল সাকিব বলেন, ‘গত ঈদে আমরা ৫০টি গরু নিয়ে এই খামারের শুরু করি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের কোরবানির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে শতাধিক দেশি জাতের ষাড় গরু কোরবানির বাজারের বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। এসব গরুকে সম্পুর্ন প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, গরু গুলোকে প্রতিদিন দুই বেলা প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন ভুট্টা, খৈল,কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি ও খড় খাওয়ানো হয়। দিনে দুই-তিনবার গোসল করানো হয়। পশুর থাকার জায়গা সবসময় পরিষ্কার রাখাসহ সার্বক্ষণিক ফ্যান চালিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে গরু পালনে খরচ বেড়েছে অনেক। প্রতিবারই কোরবানির ঈদের সময় চোরাই পথে ইন্ডিয়ান গরু প্রবেশের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে দেশিয় খামারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আশা করছি এবারে তেমনটা হবে না। যার ফলে আমরা খামারীর লাভবান হবো।

জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের সূত্র মতে জানা যায়, ‘এবার কোরবানির ঈদের জন্য জেলায় বাণিজ্যিক ও পারিবারিক ভাবে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২০১টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭৫ হাজার ৮৩৩টি এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ২লাখ ৩৩৫টি। জেলায় গরু, ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৪৩হাজার ১০৯টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ১লাখ ৩৩হাজার ৯২টি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল হক বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে দেশিয় পদ্ধাতিতে খৈইল, ঘাস ভূষি ও চালের কুড়া খাইয়ে গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে। জেলার ছয় উপজেলায় দুই লাখ ৭৬ হাজার ২০১টি গরু প্রস্তত করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় এক লাখ ৩৩ হাজার ৯২টি গবাদি পশু অতিরিক্ত রয়েছে। আশা করি ঈদুল আজহায় কোরবানীর পশুর ঘাটতি হবে না।’

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএন

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন