আশরাফুল কবির আসিফ, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস আজ। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মইনুল রোডের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।
সে সময় দেশে সম্ভবত ৭/৮ টি টেলিভিশন চ্যানেল অন এয়ারে ছিল। আমি তখন বৈশাখী টেলিভিশনে। বিকেলের শিফটের নিউজের দায়িত্ব ছিল আমার। মধ্যরাতের নিউজ শেষ করে বের হতে প্রায় প্রতিদিনই একটা-দেড়টা বেজে যেত। ব্যাচেলর ছিলাম। থাকতাম চাচার বাসায়।
অনেক রাতে বগুড়া থেকে কয়েকজন প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এরপর বেশ কয়েক জায়গায় খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করি। পরিচিত কিছু ভাই-ব্রাদারকেও ফোন করি। তাঁরাও সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। ভোরের দিকে মোটামুটি কনফার্ম হই।
গ্রেফতারের পর তারেক রহমানের উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। আদালতের কাঠগড়ায় একদিন নিজে নিপীড়নের বর্ণনা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। সেদিনও রাতে ডিউটি ছিল।
দীর্ঘদিন মা ও দুই ছেলে কারাগারে অসহনীয় সময় পার করেছেন। দেড় বছর কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান পিজি হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান। সেই সময় খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। এর আগে বগুড়ায় তাঁকে কতো দেখেছি। সেই দেখা আর রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার তারেক রহমানকে কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না। তাঁর উপর যে কী পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছিল, সেদিন যাঁরাই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তারেক রহমানকে দেখেছেন; আমার মনে হয় সবারই সেই স্মৃতি সারাজীবন মনে থাকবে।
অবশেষে মহান আল্লাহতায়ালা জিয়া পরিবারের প্রতি সদয় হয়েছেন। দুই দশক পর আবার ৭ মার্চ এসেছে। এখন তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাঁর মা এবং আদরের ছোট ভাই এই সময়টা দেখে যেতে পারলেন না!
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com