বাগেরহাট, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকার বাড়িটির উঠানে তখন নিস্তব্ধতা। পরিবারের ৯ সদস্যের নিথর দেহ একে একে বাড়িতে পৌঁছানোর মুহূর্তটি যেন সময়কে থামিয়ে দেয়। যে উঠান কয়েকদিন ধরে ছিল বিয়ের আনন্দে মুখর, সেখানে এখন সারি সারি খাটিয়া। শুক্রবার মোংলা শহরতলির শেহালাবুনিয়া এলাকার আব্দুস ছাত্তার লেনে নিহতদের বাড়িতে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
নিহত গৃহকর্তা আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি খুলনার কয়রায় হলেও বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই যুবক বয়সে এখানে এসে জাহাজে চাকরি ও ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মেয়ের বিয়েও দিয়েছিলেন কয়রায়, ছেলের বিয়েও সেখানে দিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।’
মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় ওই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৯ জন রয়েছেন। জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে ৯ জনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
নিহতদের জানাজায় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ শেখ মনজুরুল হক রাহাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
এই দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বরের বড় ভাই আশরাফুল রহমান জনি। পরিবারের অন্যরা মাইক্রোবাসে উঠলেও তিনি মোটর সাইকেলে ছিলেন। প্রাণে বেঁচে গেলেও চোখের সামনে স্বজনদের মৃত্যু দেখতে হয়েছে তাঁকে। এক সঙ্গে এতো আপনজনকে হারিয়ে তিনি এখন প্রায় বাকরুদ্ধ। মাঝে মাঝে শুধু বলছেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেন না।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে। শুক্রবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়। কেউ কেউ লাশের সৎকারের জন্য ব্যস্ত। একটু দূরে ঘরের বারান্দায় চোখ বন্ধ করে পড়ে আছেন নিহত দুই মেয়ের বাবা ও মা। তাদের পাশে বসে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে শিশু ইসমাইল। কারও মুখে কথা নেই, হা-হুতাশ অথবা আস্ফালনও নেই।
কনে মিতু আকতারের খালা জানান, তাঁর বোনের তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে মিতু আকতার, মেজো লামিয়া ও সবার ছোট ইসমাইল। বোনের সঙ্গে তার নতুন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট ভাই ইসমাইলও বায়না ধরেছিল। কিন্তু গাড়িতে জায়গা না হওয়া সে যেতে পারেনি। কেবল সে বেঁচে গেছে।
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com