ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা এক লড়াকু জননেতা। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন মাঠের অকুতোভয় সেনানি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব একাধারে একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক এবং বৃহত্তর মিরপুর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে নেতৃত্বের কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট পান, যা মিরপুরের ইতিহাসে তাঁর প্রতি জনগণের এক বিশাল আস্থার প্রতিফলন। যদিও এক হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ে সামান্য ব্যবধানে ফলাফল তাঁর প্রতিকূলে যায়, কিন্তু সেই হার তাঁকে জনসেবা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ডিএনসিসি-কে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তহবিল সংক্রান্ত অস্বচ্ছতা দূরীকরণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং আসন্ন বর্ষার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় তাঁর নেওয়া সাহসী পদক্ষেপগুলো এখন ‘টক অফ দ্য টাউন’। আজ উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে বসে তাঁর আগামীর কর্মপরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে ‘নোটো পোষ্ট’-এর এডিটর-ইন-চিফ এম আর জান্নাত স্বপনের মুখোমুখি হয়েছেন এই জননন্দিত নেতা।
নোটো পোষ্ট: ডিএনসিসি’র প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার প্রথম কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা কেমন? কোন বিষয়টিকে আপনি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?
ডিএনসিসি প্রশাসক: আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে যোগদান করেছি। যেদিন প্রথম অফিসে যাই, সেদিনের অনুভূতিটা একটু ভিন্নই ছিল। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই কাজের যে ব্যস্ততা, তাতে ওই অনুভূতিটা এখনো ওভাবে বুঝে উঠতে পারছি না। কারণ অফিশিয়াল কাজের বাইরেও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন জোনে চলমান প্রকল্পগুলো আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হয়। এটা সম্মানের জায়গা এবং একটা বিশাল বড় দায়িত্বশীল পদে কাজ করার সুযোগ; এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
নোটো পোষ্ট: সামনে বর্ষা মৌসুম। ঢাকা উত্তরের চিরচেনা জলাবদ্ধতা দূর করতে আপনার বিশেষ কোনো ‘মাস্টার প্ল্যান’ বা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ আছে কি?
ডিএনসিসি প্রশাসক: ঢাকা শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা এবং জলাবদ্ধতা—এগুলো নিয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সামনের বর্ষার কথা ভেবে এখনই ড্রেনেজ ব্যবস্থা দেখভালকারীদের নির্দেশ দিয়েছি এবং দফায় দফায় মিটিং করে একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ দিয়েছি। ঢাকা উত্তরে ২৯টি খাল আছে, যেগুলো পরিষ্কার করার কাজ পর্যায়ক্রমে চলছে। আর কিছু খালের মুখ একদম বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে পানি বড় খালে প্রবেশ করে, সেই জায়গাগুলো খননের কাজ চলছে। তবে একটি বিষয়ে আমি এলাকাবাসীকে বারবার সচেতন থাকতে বলেছি। আমরা খাল পরিষ্কার করি, কিন্তু দেখা যায় কয়েকদিন পরই আবার সেখানে প্লাস্টিক বা রান্নার আবর্জনা সরাসরি ফেলে দেওয়া হয়েছে। সবাই যদি একটু সচেতনতা দেখান, তবে আমাদের কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যায়।
নোটো পোষ্ট: ডিএনসিসি’র কর ব্যবস্থা এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া কি পুরোপুরি ডিজিটাল করার কোনো নির্দিষ্ট ডেডলাইন আপনি দিয়েছেন?
ডিএনসিসি প্রশাসক: দেখুন, সিটি কর্পোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা কর বা ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করেই পরিচালিত হয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে এবং আয় বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে ১০টি জোনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্রিফিং মিটিং হচ্ছে। ফলে কর আদায়ের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে।
আর ট্রেড লাইসেন্স তো পুরোপুরি অনলাইনেই আছে। এখানে হয়তো একটা বোঝার ভুল আছে। অনেকে মনে করেন অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা কাগজটি নিয়ে আবার সিটি কর্পোরেশনে এসে সই করাতে হবে; আসলে বিষয়টি এমন নয়। অনলাইনে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে যে কিউআর কোড সম্বলিত প্রিন্ট কপিটি বের হয়, সেটিই অ্যাপ্রুভড সার্টিফিকেট। জন্ম-মৃত্যু সনদের ক্ষেত্রেও আমরা নাগরিক সেবা সহজ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
নোটো পোষ্ট: রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন, ডিএনসিসি’র প্রশাসক হিসেবে সেই ভিশন বাস্তবায়নে আপনার অগ্রাধিকার কী কী?
ডিএনসিসি প্রশাসক: প্রথমত, উনি একটি আধুনিক বাসযোগ্য, সবুজ এবং দুর্গন্ধমুক্ত শহর জনগণের কাছে উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। আমি সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। মশা নিধন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কথা যদি বলি—আগে মিরপুর ১০ নম্বরে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত, কিন্তু গত কয়েকদিন হয়নি। কারণ আমাদের ‘কিউআরটি’ (Quick Response Team) সবসময় প্রস্তুত থাকে। এছাড়া বর্ষার পরপরই আমরা বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। প্রতিটি জোনের স্পট নির্ধারণের কাজ চলছে।
নোটো পোষ্ট: প্রস্তাবিত হেমায়েতপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মিরপুর ও গাবতলীর যানজট কতটা কমবে?
ডিএনসিসি প্রশাসক: হেমায়েতপুর বাস টার্মিনালটি আমরা যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আন্তঃজেলা নাইট কোচগুলোকে আর গাবতলী পর্যন্ত ঢুকতে হবে না। দূরপাল্লার বাসগুলো যখন গাবতলীতে আসবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় যানজট অনেক কমে যাবে। গাবতলী টার্মিনাল তখন মূলত সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হবে।
নোটো পোষ্ট: আপনি মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এখানে বিপুল সংখ্যক হকার রয়েছে। তাদের উচ্ছেদ বনাম পুনর্বাসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ডিএনসিসি প্রশাসক: দেখুন, আমি এই এলাকারই সন্তান। মানবিক কারণে আমি নিজে ফুটপাত পরিদর্শন করে হকারদের বুঝিয়ে বলেছি—আপনারা দীর্ঘদিন এখানে ব্যবসা করার ফলে জনগণের দুর্ভোগ হয়। সম্প্রতি আমি প্রায় দেড় হাজার হকারকে নিয়ে মুকুল ফৌজ মাঠে মিটিং করেছি। আমি তাদের প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের যদি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তবে কি আপনারা ফুটপাত ছাড়বেন? তারা একযোগে রাজী হয়েছে।
যাতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আশেপাশে কোনো খোলা মাঠ বা নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আমি একটি কমিটি করে দিয়েছি। সেখানে হকার প্রতিনিধি, এলাকার প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন এবং ডিএনসিসি প্রতিনিধিরা থাকবেন। আমরা চাই সমাধানটা যেন টেকসই হয়। তবে ফুটপাত কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না—এই অঙ্গীকার তারা করেছে। এরপরও যদি কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখতে চায়, তবে আমরা আইনগত একশনে যাব।
নোটো পোষ্ট: ডিএনসিসির তহবিল নিয়ে একটি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সাবেক প্রশাসক দাবি করেছিলেন ১,২৬০ কোটি টাকা আছে। এ বিষয়ে আপনার স্পষ্ট বক্তব্য কী?
ডিএনসিসি প্রশাসক: আমি ইতোমধ্যে এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছি। সাবেক প্রশাসক ১২৬০ কোটি টাকার যে কথা বলেছিলেন, তা আসলে সাধারণ তহবিল নয়। আমি ২৫ তারিখ যোগদানের পর ‘সাধারণ তহবিল’—যা দিয়ে বেতন-ভাতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিল দেওয়া হয়—সেখানে পেয়েছি মাত্র ২৫ কোটি টাকা। সাবেক প্রশাসক সম্ভবত সিটি কর্পোরেশনের এফডিআর (স্থায়ী আমানত), শিক্ষা খাত বা অন্যান্য সংরক্ষিত তহবিলের টাকা মিলিয়ে ওই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু দৈনন্দিন খরচের জন্য সাধারণ তহবিলে অংকটা ছিল মাত্র ২৫ কোটি।
নোটো পোষ্ট: মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আপনার নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
ডিএনসিসি প্রশাসক: আমরা মশক নিধন নিয়ে কাজ করছি। ঈদের ছুটির পর ৫৩৪টি স্কুলে আমরা একযোগে লার্ভিসাইডিং করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়। মশা শুধু ওষুধ দিয়ে মারা যায় না, এর জন্য ড্রেন এবং বর্জ্য পরিষ্কার রাখা জরুরি। এজন্য আমাদের ১০টি জোনে ‘কিউআরটি’ কাজ করছে। আগে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শুধু ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত কাজ করতেন, এখন থেকে শিফট চেঞ্জ করে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও সেটি পর্যালোচনা করব।
নোটো পোষ্ট: ডিএনসিসি’র অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কতটা কঠোর?
ডিএনসিসি প্রশাসক: আমি যোগদানের পরপরই সকল ডিপার্টমেন্টের সাথে মতবিনিময় করেছি। আমার স্পষ্ট বার্তা ছিল—অতীতে কী হয়েছে সেটা বড় কথা নয়, এখন থেকে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমি নিজে অনিয়ম করব না এবং কাউকে অনিয়মের ভেতরে থাকতে দেব না।
নোটো পোষ্ট: বিগত সরকারের আমলে আপনি অসংখ্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। সেই দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতি যদি সংক্ষেপে বলতেন?
ডিএনসিসি প্রশাসক: গত ১৭ বছর আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি। এই লড়াইয়ে আমার সামনে ডানে-বামে থেকে অনেক সহকর্মীকে আমি হারিয়ে যেতে দেখেছি, অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ৫ই আগস্টের পর আমরা এক নতুন বাংলাদেশে বসবাস করছি। আমরা চাই না ভবিষ্যতে আবার এমন পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
মাননীয় তারেক রহমান চান একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনীতির নতুন বাংলাদেশ। উনি নির্বাচনের আগে অঙ্গীকার করেছিলেন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা করার; ২২ দিনের মাথায় তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। আমরা এমন নেতৃত্বকেই অনুসরণ করতে চাই এবং ঢাকা উত্তরকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে উপহার দিতে চাই।
নোটো পোষ্ট: আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কি আপনাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মিরপুরবাসী ও দল প্রত্যাশা করতে পারে?
ডিএনসিসি প্রশাসক: আমি মিরপুরের সন্তান, এখানেই আমার জন্ম ও রাজনৈতিকভাবে বেড়ে ওঠা। তাই এলাকাবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে প্রত্যাশা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমার বড় আস্থার জায়গা হলো দল এবং দলের প্রধান জনাব তারেক রহমান। উনি ঢাকা উত্তরে যাকে মনোনীত করবেন, সেই সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমার মনোবাসনা থাকতেই পারে, কিন্তু দলের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
নোটো পোষ্ট: নগরবাসী এবং পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
ডিএনসিসি প্রশাসক: ঢাকাকে আধুনিক করতে হলে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। আপনারা ট্যাক্স দেন, সেবা পাওয়া আপনাদের অধিকার। কোথাও কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখলে আমাদের জানান, আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। যেমন সেদিন রাস্তায় ভিজিটে থাকাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম একটি ড্রেনের কাজ নিম্নমানের হচ্ছে, আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়েছি। আপনাদের সচেতনতাই আমাকে আরও বেশি কাজ করার তাগিদ দেবে।
সমাপ্তি: দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বক্তব্যে কেবল একজন প্রশাসকের দাপ্তরিক ভাষা নয়, বরং ফুটে উঠেছে নাগরিকের প্রতি দায়বদ্ধ এক দরদী হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। রাজনীতির দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি নগর প্রশাসনের হাল ধরেছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক অনমনীয় প্রত্যয় এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন। একদিকে তিনি যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে আপসহীন কঠোরতার কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে হকারদের জীবন-জীবিকার বিষয়ে তাঁর প্রদর্শিত সংবেদনশীলতা এক বিরল দৃষ্টান্ত। হেমায়েতপুর বাস টার্মিনাল প্রকল্প থেকে শুরু করে মিরপুরের অলিগলির সংস্কার—সবক্ষেত্রেই তাঁর সজাগ দৃষ্টি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল ফাইলবন্দী প্রশাসক নন, বরং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বিশ্বাসী একজন কর্মবীর। রাজনীতির লড়াকু সৈনিক থেকে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তাঁর এই উত্তরণ উত্তরের নাগরিকদের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সত্যিই একটি বাসযোগ্য, গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশা এখন সর্বস্তরের নগরবাসীর। ‘নোটো পোষ্ট’-এর পক্ষ থেকে জনসেবার এই মহতী যাত্রায় তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।




