যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রেকর্ড গতিতে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চলতি বছরের শুরুতে মিনেসোটায় দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর অভিযান কিছুটা শিথিল হলেও, বর্তমানে তা নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পাঠানো আইসিই-এর অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে শুক্রবার ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১,৪০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে কয়েক দিন আইসিই দৈনিক অন্তত ২,০০০ গ্রেপ্তারের লক্ষ্য পূরণ করেছে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ দৈনিক গড় রেকর্ড।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সংস্থাটিকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ৩৯ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে দৈনিক গড় গ্রেপ্তার ছিল ১,৩১৯ জন। বর্তমানে জুলাইয়ে দৈনিক গড় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১,৪৩৩-এ দাঁড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে মোট গ্রেপ্তার ৪৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অবশ্য এই গণ-গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই গাড়িচালক নিহত হন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় ট্রাক্টর-ট্রেইলারের ধাক্কায় আরেক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার কিছুটা কমেছিল। পরবর্তীতে মার্চ মাসে তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম নিহতদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী বলে দাবি করলে ট্রাম্প তাঁকে বরখাস্ত করেন। সেই ধাক্কা সামলে জুনে এসে গ্রেপ্তার অভিযান আবার ৩৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আইসিই ও হোয়াইট হাউসের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’।


